Categories

কাসা, পিতল ও তামার পার্থক্য

আসুন কেনার আগে জেনে নেওয়া যাক পিতল,কাসা এবং তামা সম্পর্কে______

পিতলঃ তামা ও দস্তার মিশ্রণে তৈরী সংকর ধাতু। পিতলে তামা ও দস্তার পরিমাণে তারতম্য ঘটতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন ধরনের পিতল তৈরি সম্ভব।

চীনে খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ পূর্বেও পিতলের ব্যবহার দেখা যায়। কাঁসাঃ হচ্ছে রাং বা টিন (Tin) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু। অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে কাঁসা আর পিতল হচ্ছে একই জিনিস।কিন্তু পিতল হচ্ছে দস্তা (Zinc) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু।কাজেই কাঁসা আর পিতল একই জিনিস নই।এটি একটি মিশ্র ধাতু। তামাঃ ইংরাজি নাম কপার (Copper) একটি রাসায়নিক মৌল যার চিহ্ন Cu এসেছে ল্যাটিন শব্দ কিউপ্রাম (cuprum) থেকে এবং এর পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ২৯। তামা একটি নমনীয় ধাতু এবং এর তাপীয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহীতা খুব উঁচু দরের তাই অনেক বিজলিবাহী তারের মধ্যেই তামার তার থাকে ।

বিশুদ্ধ তামা খুব বেশি নরম ও নিজস্ব উজ্জ্বল বর্ণ সমন্বিত কিন্তু আবহাওয়ার সংস্পর্শে এর বাইরে একটি লালচে-কমলা বিবর্ণ স্তর তৈরী হয়। তামা ও তামার বহু মিশ্র ধাতু (যেমন ব্রোঞ্জ, পিতল ইত্যাদি) অনেক হাজার বছর ধরে মানুষের নিত্য সঙ্গী । প্রাচীনকালে তামার অনেক খনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে সাইপ্রাস (লাতিনে Cyprus ক্যুপ্রুস্‌) দ্বীপের খনিগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যময়। অনেকের মতে তামার ইংরেজি নাম কপার (লাতিন নাম Cuprum কুপ্রুম) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। কাঁসার/পিতল এবং তামার তৈরী বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার______

বাংলাদেশ এবং ভারতে বিভিন্ন ধরনের অলংকারাদি এবং গৃহস্থালির উপকরণ তৈরীতে কাঁসা এবং পিতল ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এই ধরনের ধাতুর তৈরী ব্যবহার্য জিনিস-পত্র দ্বারা পারিবারিক ঐতিহ্য (বনেদী-ভাবধারা) প্রকাশ পেয়ে থাকে । বর্তমান যুগে যেমন কোনো পরিবারে স্টেইনলেস স্টীলের জিনিস দ্বারা পরিবারের স্বচ্ছলতাকে নির্দেশ করে।তেমনি আগেরকার যুগে ধনী পরিবারগুলোর কাঁসা,তামা এবং পিতলের ব্যবহার দ্বারা ঐ সকল পরিবারগুলোর আভিজাত্য প্রকাশ পেয়ে থাকত । শুধু তাই নয়, এখনও অনেক ধনী পরিবার রান্না-বান্নার কাজে কাঁসা কিংবা, পিতল ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও ফুলদানী, টেবিল-ল্যাম্প, কিংবা, ঝাঁড়বাতি, ইত্যাদি ক্রয় এবং ব্যবহার করে থাকেন ।

খুব সহজেই দু-তিনটি উপকরণের সহায়তায় পরিষ্কার করে ফেলতে পারবেন পিতল,কাঁসা,তামা ও রুপা পিতল বাসন মাজার ফোম নিন। ফোমের ওপর লবণ আর লেবুর রস ছিটিয়ে দিন। এবার এটি দিয়ে ভালোভাবে পিতলের বিভিন্ন জিনিস ঘষে নিন। প্রয়োজন মনে করলে পুনরায় লেবুর রস আর লবণ দিয়ে নিন। কালচে ভাব অনেকটাই চলে যাবে। সবশেষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাঁসা খুব পুরোনো কাঁসার জিনিস হলে ডিটারজেন্ট দিয়ে আলতো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

তুলনামূলক নতুন ও অমসৃণ উপরিভাগ হলে নরম ব্রাশে ডিশ সোপ নিয়ে ঘষুন। চকচকে ভাব চাইলে পিতল মেটাল পলিশ দিয়ে ঘষে নিতে পারেন। তামা বাজারে পাওয়া সাধারণ টমেটো সস আর লবণ দিয়েই তামার বিভিন্ন জিনিস পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব। পরিষ্কার কাপড়ের ওপর টমেটো সস আর লবণ একসঙ্গে নিয়ে তামার জিনিস ঘষুন। একটু সময় নিয়েই কাজটা করতে হবে। রুপা একটি পাত্রে পানির সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পানির দ্বিগুণ বা তিন গুণ পরিমাণ সোডা দিন। মিশ্রণটি মেশানোর পর যেন গঠনটা শক্ত থাকে। এবার কাপড়ে মিশ্রণ নিয়ে রুপার জিনিসের ওপর ভালোভাবে ঘষুন। কালচে দাগ দূর হয়ে চকচক করবে। সূত্র: গুগল এবং হাউস বিউটিফুল ম্যাগাজিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *