Categories

তামার উপকারিতা

তামার উপকারিতাঃ পানির অপর নাম জীবন।

সারাদিনে সকলেই পানি পান করে থাকি। কিন্তু কোন পাত্রে পানি খাচ্ছি তা নিয়ে আমাদের অনেক সময়েই কোনও মাথাব্যথা থাকেনা। সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে আমাদের দেশে তামার ব্যবহার চলে আসছে। নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে তামার বাসন ব্যবহার হয়ে এসেছে যুগ যুগ ধরে। তামা, কাঁসা, পিতল, এই ধাতু বা ধাতুসংকরগুলো বরাবরই সমাজে দৈনন্দিন সাংসারিক ব্যবহারের অন্যতম উপকরণ ছিল।

তামা এমনই এক ধাতু যা আমদের শরীরের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ।তামার পাত্রে পানি রেখে আগেও পান করা হত।সভ্যতার রদবদলে আসে আরও অন্যান্য ধাতু ও প্লাস্টিক।

১.তামার পাত্রে রাখা পানিতে থাকে ন্যাচারাল অ্যান্টি অক্সিডান্ট যা আমদের শরীরের ৩টি দশার ভারসাম্য বজায় রাখে। ‘কপা’, ‘ভাতা’ ও ‘পিত্ত’, যাকে অনেকেই বাংলায় ‘বায়ু, পিত্ত ও কফ’ বলে থাকেন। এই ৩টির সঠিক ক্রিয়াকলাপে সাহায্য করে অ্যান্টি অক্সিডান্ট।

২.শরীরের বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধের জন্য অ্যান্টি অক্সিডান্ট যুক্ত খাবার ও জল সুফলদায়ী।

৩. মানবদেহে তামার পরিমাণ সঠিক মাত্রায় থাকলে শরীরে রক্তের ঘাটতি হয়না।

৪.পেটের রোগের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে তামা।

৫.যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্য বা অম্বলের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য তামার পাত্রের পানি ভাল ফল দেয়, হজমের সমস্যাও দূর হয়।

৬.তামায় জীবাণুরোধী গুণ থাকায় বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে দূরে রাখে।

৭. শরীরে যদি জন্ডিস হয়ে থাকে বা ডায়রিয়ার জীবাণু থেকে থাকে তবে তাও ধ্বংস হয়ে যায় তামার প্রভাবে।

৮.লিভারের সমস্যা থেকেও মানুষকে দূরে রাখে তামা।

৯.গ্যাস্ট্রিক আলসার যাঁদের আছে তাঁরা নিয়মিত তামার পাত্রে রাখা জল পান করলে উপকার পাবেন। সতর্কতাঃতামার গ্লাস বা জারে টক জাতীয় পানীয় রাখা উচিত নয়। টক এড়িয়ে শুধুমাত্র সাদা পানি রেখে খান। খাঁটি তামার পাত্র চেনার উপায়ঃ- তামার জারে পানি রাখার পর যদি সেই পানি কাচের গ্লাসে ঢেলে দেখেন যে পানির রং ঘোলাটে হয়ে গেছে বা পানির রং পরিবর্তন হয়েছে তবে ওই পানি কিন্তু পানের জন্য একদমই নিরাপদ নয়। অবিলম্বে তামার পাত্রটি পরিবর্তন করে শুদ্ধ তামার পাত্র কেনা উচিৎ। কারণ তামার গ্লাসে বা বোতলে যদি শুদ্ধ পানি রাখেন সেই পানি দীর্ঘসময়ের পরও একইরকম স্বচ্ছ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *